তামাদি আইনের প্রাথমিক ধারনা

তামাদি আইনের প্রাথমিক ধারনা

রহিম মিয়া করিম সাহেবের কাছ থেকে ৫০০০ টাকা ধার নিয়েছি, করিম সাহেব ৭ বছর পর বলল রহিম মিয়াতো আমার টাকা ফেরত দেয়নি, অন্যদিকে করিম মিয়াতো বলেন না সে টাকা ফেরত দিয়েছে তাও আবার ২ বছরের মধ্যেই, কিন্তু ঘটনাটা বেশ আগে ঘটায় কেউ যথাযথ দলিল বা সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করতে পারছে না। এখন এমন আগের ঘটনায় কে সত্য বলছে বা কে মিথ্যা বলছে তা বের কর কঠিন কখনো কখনোবা অসম্ভব। তাই এখানে করিম সাহেবের দায়িত্ব জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন চলে আসে, সে যদি টাকা পেত তবে কেন এতদিন পর সেটা চাইল? এখানে আইনের একটি বহুল ব্যবহৃত নীতি চলে আসে “Equity aids the vigilant, not those who slumber on their rights” অর্থাৎ যে তার অধিকার নিয়ে জাগ্রত থাকে আইন তাকে সাহায্য করে, যে তার অধিকার বুঝেও ঘুমিয়ে থাকে তাকে নয়।

তামাদি আইন দেওয়ানি মামালা করার সময় নির্ধারণ করে দিয়ে ন্যায় বিচার চাওয়ার জন্য একটি বাদী-গনকে একটি সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। মামালার ধরন, কারণ, উৎপত্তি ভেদে এই সময়কে নানান ভাবে ভাগ করা হয়েছে, আবার সময় কখন কিভাবে গণনা করা হবে এবং বিশেষ সুবিধা অসুবিধা বা প্রতিবন্ধকতা কিভাবে হিসেব করা হয় তাও ব্যাখ্যা করা আছে।

  • এই আইনের উদ্দেশ্য কোন কিছু সংজ্ঞায়িত করা বা মামলা কারণ নির্ণয় করা নয়, শুধুমাত্র এটা বলা যে তার বিদ্যমান থাকা অধিকার কোন সময়ের মধ্যে বিচারে জন্য আনতে হবে।
  • এই আইন শুধুমাত্র প্রতিবিধান নিয়ে কথা বলে।
  • এই আইন মামলা কখন আদালতে আনতে হবে তা বলে না বরং কখন আর মামলা করা যাবে না তা বলে দেয়।

তামাদি আইনকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

১. সীমাবদ্ধতা (Limitation) : কখন আর মামলা করা যাবে না, অর্থাৎ মামলা করার সময় সীমা ও তদসংশ্লিষ্ট ধারা গুলো আছে এই আইনের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় খণ্ডে, ধারা ৩ থেকে ২৫ এর মধ্যে। এই আইনের এই বড় অংশটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law), এখানে কিভাবে কার্য পরিচালনা হবে তা বলা আছে। এটি কোন অধিকারে বাধা প্রদান করে না শুধুমাত্র আদালতে প্রতিবিধান চাওয়ার সময়কে নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু বাদী চাইলে অন্য ভাবে তার অধিকার আদায় করতে পারেন। যেমন ধরুন মীমাংসার মাধ্যমে।

২. বিধি নিষেধ (Prescription / Extinctive Prescription) : এই অংশে (চতুর্থ খণ্ড) শুধুমাত্র কখন মামলা করা যাবেনা তাই বলেনি বরং এটি Substantive আইনের মত বিধি বিধানও সংযুক্ত করে বলে দিয়েছে যে কখন অধিকার আর থাকবে না । এই ধারাগুলো অধিকারে বাধা প্রদান করে এবং অধিকার বাতিল করে অর্থাৎ পরে আর কোন উপায়ে অধিকার আদায় করার চেস্টা করা যাবে না।

৩. অর্জন বিধি বিধান (Acquisition prescription) : এটি এক ধরনের বিধি বিধান (prescription) যেখানে (চতুর্থ খণ্ডে) বলা হয়েছে কখন অধিকার থাকবেনা এবং নতুন অধিকার জন্মাবে। যেমন এই আইনের ২৬ থেকে ২৮ ধারার মধ্যে ইজমেন্ট অধিকারের কথা বলা আছে।

তামাদি আইনের সাধারণ নিয়ম

  • তামাদি আইন শুধুমাত্র বাদীর মামলা করার জন্য প্রযোজ্য হবে।
  • বাদী, কেন যথাসময়ে মামলা করা হোল না তা প্রমাণের জন্য আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তামাদি আইন ব্যবহার করতে পারবেন।
  • তামাদি আইনের বর্ণিত সময়ের মধ্যে মামলা, আপিল বা দরখাস্ত না করলে পরে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

Leave a Reply